জিমের বিকল্প ঘুম

আকর্ষণীয় কে না হতে চায়! কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া কিংবা অনিয়মের চলাফেরার কারণে সেটা অনেক সময় হয়ে উঠে না বেড়ে যায় মেদ। তবে জিম সেন্টারে গিয়ে শরীরচর্চা কিংবা খাওয়া-দাওয়ায় রাশ না টানলেও ছোটখাটো বেশ কিছু ফ্যাক্টর থাকে, যা আপনাকে করে তুলতে পারে আকর্ষণীয়।

শরীর সুন্দর রাখতে হলে প্রথমেই যেটা দরকার, তা হলো পর্যাপ্ত ঘুম। হ্যাঁ, নিয়মিত ব্যায়াম ও ক্যালোরিতে কাটছাঁট করার পাশাপাশি দরকার যথেষ্ট পরিমাণ ঘুম। তবে শুধু ঘুমোলেই হবে না, তার সঙ্গে মেনে চলতে হবে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট নিয়ম। তবেই সামগ্রিকভাবে ফল পাবেন। আসুন জেনে নিই সেই নিয়মগুলো-

ঘুমোতে যাওয়ার আগে প্রথমেই দেখে নিন, আপনার ঘর অন্ধকার রয়েছে কি না। লাইট নেভানোর পাশাপাশি দেখে নিন ঘরের জানালাগুলোতে পর্দার অবস্থান যেন ঠিক থাকে। এসবের পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক যুক্তি। অন্ধকার ঘর শরীরে মেলাটনিন তৈরিতে সাহায্য করে। যা প্রভাবিত করে মেটাবলিক রেটকে। মেদ কমাতে সাহায্য করে।

বিছানায় যান তাড়াতাড়ি। গভীর ঘুম শরীরের ক্যালোরি বেশি পোড়াতে সাহায্য করে। যত বেশি গভীর ঘুম হবে, তত বেশি কমবে শরীরের মেদ। কারণ, গভীর ঘুমের সময় ব্রেন সবথেকে বেশি অ্যাকটিভ থাকে। যা শরীরের এনার্জি ব্যবহার করে বডি ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে।

শুতে যাওয়ার আগে দেখে নিন আপনার ঘরের কুলার টেম্পারেচার। কারণ, শরীরে যে ব্রাউন ফ্যাট থাকে যা পরিচিত ব্রাউন অ্যাডিপোজ টিস্যু হিসেবেও তা ঠান্ডা পরিবেশে আরও বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে। যা ফ্যাট সেল গুলি পোড়াতে সাহায্য করে।

ঘুমোতে যাওয়ার আগে নিয়ে নিন গ্রিন টি। ক্যাফেইন থাকার কারণে গ্রিন টি মেটাবলিজম রেট বাড়ায়। ফলে দ্রুত ক্যালোরি বার্ন হয়।

সবশেষে যেটা না করলেই নয়, তা হলো বিছানায় গিয়ে নিজের প্রিয় ইলেকট্রিক ডিভাইস যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব বন্ধ করে দিন। কারণ এই জিনিসগুলোই আপনাকে ভালো ঘুম থেকে দূরে রাখে। ফোনের ব্লু লাইট শরীর থেকে মেলাটনিন হরমোন নিঃসরণে বাধার সৃষ্টি করে। ব্যাঘাত ঘটে ঘুমের। তাই নিজের প্রতি যত্ন নিন। পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়া, শরীর চর্চার পাশাপাশি নজর দিন নিজের ঘুমের দিকেও।

আরও পড়ুন

ওজন নিয়ন্ত্রণে কলা

নানা কারণে মানুষের সুস্থ থাকা এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সচেতন থাকলে এবং নিয়ম মেনে চললে অনেক ভালো থাকতে পারেন যে কেউ। সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন সকালেই কলা খেতে। অ্যাসিডিটি হওয়ার ভয় থাকলে তার আগে এক মুঠো মুড়ি খান।

সকালে উঠে একগ্লাস উষ্ণ গরমপানি পান করুন। গরমপানি খাওয়ার ৩০ মিনিট পর খান এক মুঠো মুড়ি। এরপর ১৫ মিনিট ফ্রি হ্যান্ড কিছু এক্সসারসাইজ করে কলা ও আমন্ড খান। এতে শরীর থাকবে সুস্থ। থাকবে না গ্যাস অম্বলের ভয়।

কলায় রয়েছে শরীরের জন্য উপকারী পটাসিয়াম, ফাইবার ও ম্যাগনেসিয়াম। তা শক্তি বৃদ্ধি করে এবং ক্ষিদে দূরে রাখে। প্রতিদিনই কলা খাওয়া যায়। কিন্তু খালি পেটে কলা খাওয়া ঠিক নয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে: অনেকেই মনে করেন, কলা খেলে ওজন বাড়ে। আর তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যতালিকা থেকে অনেকেই কলা বাদ দিয়ে দেন।

আমরা যে আবহাওয়া থেকে থাকি, সেই আবহাওয়াতে সবচেয়ে পুষ্টিকর ফল হল কলা। রক্তচাপ ঠিক রাখা থেকে শুরু করে হার্টের সমস্যা সবই দূরে রাখে কলা। এছাড়াও পাকা হলুদ কলায় প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

ব্রেকফাস্টে কলা : ব্রেকফাস্টে ডিম, টোস্ট কিংবা কর্নফ্লেক্সের সঙ্গে অনেকেই কলা খান। এতে যেমন পেট ভরা থাকে তেমন পুষ্টিও পাওয়া যায়।

যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তারা অবশ্যই কলা খাবেন ব্রেকফাস্টে। হজমের সমস্যা থাকলেও কলা খেতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কলা সবসময় হেলদি ফ্যাটের সঙ্গে খেতে হবে। পিনাট বাটার, ইয়োগার্ট কিংবা পরিজের সঙ্গে কলা খান।

খালি পেটে কলা নয়: কলা খাওয়ার আগে একমুঠো শুকনো মুড়ি কিংবা দুটো ক্রিম ক্র্যাকার বিস্কুট অবশ্যই খান। কলাতে ২৫ শতাংশ প্রাকৃতিক সুগার থাকে।

আর যে কারণে খালি পেটে কলা খেলে অ্যাসিডিটি হয়ে যায়। ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চের মধ্যখানে অনেক সময়ই বেশি গ্যাপ হয়ে যায়। সেই গ্যাপটা পূরণ করে দেয় কলা। কারণ কলায় থাকা ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম শরীরের প্রয়োজনীয় খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে: পেট পরিষ্কার না হলে আরও নানা সমস্যা দেখা যায় শরীরে। যে কারণে সকালে উঠেই যাতে পেট পরিষ্কার হয় সেইদিকে খেয়াল রাখতেই হবে। যাদের আলসারের মতো সমস্যা রয়েছে, যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন তাদের নিয়ম করে কলা খেতে হবে।

তবে আপনি যদি সকালে একদম খালি পেটে কলা খান, তাহলে আপনার শক্তি কয়েক ঘণ্টা পরই বেরিয়ে যাবে। এর ফলে আপনি অলস হয়ে পড়বেন। ক্লান্ত লাগবে এবং ঘুম পাবে। তাই খালি পেটে কলা না খাওয়াই ভালো।

শরীরে পানির চাহিদা পূরণে কলা: আগের রাতে বেশি তেল মশলাদার খাবার খাওয়া হলে কিংবা একটু বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল খাওয়া হয়ে গেলে পরেরদিনও তার একটা প্রভাব থেকে যায়।

কলা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। আর কলা,